http://dhakareview.org/interveiw-with-shekor/
ঢাকা রিভিউ: ‘বাঞ্ছকল্পতরু’ বই হিসাবে কত নম্বর বই? এর আগের বইগুলোর নাম কি?
উত্তর: এটা আমার দ্বিতীয় কবিতার বই। প্রথম কবিতাগ্রন্থটির নাম ‘প্রত্নচর্চার পাঠশালা’। ২০১৪ সালে পাঠসূত্র প্রকাশন ৪৮টি কবিতা নিয়ে বইটি প্রকাশ করেছিল।
ঢা রি: এই বইয়ে কয়টি কবিতা আছে? কতদিনের প্রস্তুতি?
উত্তর: এই বইয়ে ৫৪টি কবিতা আছে। তিন বছর ধরে লেখা প্রায় ১৫০ প্রকাশিত কবিতা থেকে বাছাই করে বইটি করেছি।
ঢা রি: আমাদের বই শুধু মেলা উপলক্ষে বের হয় কেন? এটা কি ঠিক?
উত্তর: আমাদের দেশে বই মেলা বড়ো উৎসবে পরিণত হয়েছে। সবাই চাই এই উৎসবের শামিল হতে। তাছাড়া বই মেলায় গিয়ে মানুষ বই কেনে। তাই হয়তো বই মেলে উপলক্ষে সবাই বই বের করতে চায়। ঠিক বেঠিকের প্রশ্ন নয় বরং বই প্রকাশিত হচ্ছে এটা একটা বড়ো ব্যপার। সব লেখকরা এক ধরনের চর্চার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এটাই পজেটিভ।
ঢা.রি: একটা বইয়ের থিম কিন্তু তার শিরোনাম।আপনার শিরোনাম কিভাবে দেওয়া।
উত্তর: আমার বইয়ের শিরোনাম ‘বাঞ্ছাকল্পতরু’। মূলত পৌরাণিক মিথ থেকে এ নাম নেয়া। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মাটিলগ্ন বিষয়গুলোর সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের পৌরাণিক মিথগুলো মিলে মিশে আছে। মিথের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে এ ধরনের নামকরণ। এ ছাড়াও সমকালিন বিষয়গুলোকে মিথিক ব্যঞ্জনায় কবিতায় উপস্থাপনের অদম্য ইচ্ছা আমার কবিতার অন্তর্গত বিষয়। ‘বাঞ্ছাকল্পতরু’ হল এমন একটি কল্পিত বৃক্ষ যার কাছে যে যা চাইবে তাই পাবে। অর্থাৎ সে সবার বাঞ্ছা পুরণ করে। আমার কবিতার মধ্যে বাংলার বিভিন্ন বিষয়-আশয় ধরার প্রবণতা আপনারা দেখবেন।
ঢা রি: আপনার কবিতাগুলো কি অটোমেটিক পোয়েট্রি না আপনি সচেতনভাবে কোনো থিম নিয়ে কাজ করেছেন?
উত্তর: অটোমেটিক পোয়েট্রি বলতে আমরা কি বুঝব? যে কবিতা কবির মস্তিষ্ক হতে কলমে অটোমেটিক চলে আসে? আসলে অটোমেটিক পোয়েট্রি বলে কিছু কি আছে? কবিতার কবির সচেতনার ফল মাত্র। অটোমেটিক হলেও তা কবির চারপাশের চিন্তা ও চিত্রের সচেতন প্রতিফলন। কবিতায় দর্শন খুব জরুরী। তবে কোণ বিশেষ থিম নিয়ে একটা কবিতার বই করা যায় কি না আমি জানি না। তবে বিভিন্ন থিমের মাঝে একটি দর্শন একটি গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। আমার কবিতার বইয়ে আমি বাংলাদেশের আবহমান ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ভেতর মানুষের বিচিত্র চিন্তা ও চেতনার সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি মাত্র। লোকজ বিষয়, সংস্কার ও মিথিক অনুষঙ্গ আমাকে প্রাণিত করে। আমার কবিতায়ও তাই আছে।
ঢা রি: কবিতার কি কোনো দায় আছে? থাকলে সেই দায়বোধ কি? কারপ্রতি?
উত্তর: সাহিত্যের অবশ্যই দায় আছে। কবিতারও। এই দায় কবির বেড়ে ওঠা দেশের মানুষের, সমাজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি।
ঢা রি: আপনার এই কবিতার বই পাঠককে কি বলতে চায়?
উত্তর: আমার কবিতার বই পাঠককে কি বলতে চায় পাঠক পড়ে বুঝে নিবে। তবে আমি চেষ্টা করেছি মানুষের সহজিয়া চেতনাকে উস্কে দিতে। কতটুকু পেরেছি পাঠক বলবে।
ঢা রি: কবিতার বই চলে না জাতীয় একটা কথা প্রচলিত আছে। এটা কি ষড়যন্ত্র?না চললে এত বই বের হবে কেন?
উত্তর: কবিতার পাঠক কখনো বেশি ছিল না। মূলত কবিরাই কবিতাকে গুরুত্বের সাথে পাঠ করে। তাই হয়তো কবিতার বই কম চলে। তবে কবিতার বই একদম চলে না তা নয়। ষড়যন্ত্রের বিষয় নয়, হয়তো গল্প, উপন্যাসের চেয়ে কম চলে বলেই এমন কথা প্রচলতি। বই যেমন বের হচ্ছে তেমন বই বিক্রিও হচ্ছে তবে কম আর বেশি।
ঢা রি: আপনার এই বইয়ের কতটুকু প্রচারণা ও বিক্রয় আশা করেন?
উত্তর: বইয়ের প্রচারণা অবশ্যই চাই। তবে আগেই বলেছি কবিতার পাঠক কম। আমার বই এসেছে ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে। দুই দিনে ১০ কপি বিক্রি হয়েছে ‘বাতিঘর’ বই বিপণী হতে। বই বিক্রি হলে ভালো লাগে।
ঢা রি: আপনার পাঠকের জন্য কিছু বলবেন?
উত্তর: পাঠককে বলবো বই কিনুন, পড়ুন।
ঢা রি: বাংলা একাডেমির মেলা ও অন্য কোথায় বইটি পাওয়া যাবে?
উত্তর: বাংলা একাডেমির মেলায় ৫৭৭ নং ‘বেহুলা বাংলা’, বহেরা তলার ‘তৃতীয় চোখ’ ও ‘খড়িমাটির’ স্টলে বইটি পাওয়া যাবে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বই বিপণি ‘বাতিঘর’, ‘নন্দন’, ‘গ্রন্থনিলয়’ ও ‘কারেন্ট বুক সেন্টার’ এবং চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত বই মেলায় ‘শাঁখ’ এর স্টলে বইটই পাওয়া যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন