মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
শেখর দেব এর কবিতা

স্মৃতির ধুলো
(শাখীকে)
এখানে নবীন ঘাসের ডগায় জমে থাকা জলের
কোন বিমুগ্ধ ইতিহাস জানা নেই
জানতে চেয়েছি জন্মের স্মৃতি
কিংবা আরো পুরনো জন্মের ইতিহাস
নিশ্চুপ জল গড়িয়ে গড়িয়ে চলে গেল শেকড়ে।
যে আমাকে ছেড়ে গেছে
অথবা ছেড়ে যাবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে
নিজেকে করেছে নতুন আলাদা
তার কাছে কী লুকিয়ে রেখেছিলাম আজ মনে নেই।
সুনীলের বোষ্টমী হয়ে অসমাপ্ত রেখে যায় জীবনের গান
তার হাত ধরে-কেনো পথে নামিনি-তাই ভাবি আজ।
কালো কোন রঙ নয়
তবুও তার অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে বলো-
আমি আর অমন কী সুন্দরী-সব মেকাপের মুগ্ধতা
অথচ তোমার দুচোখে ভেসে ওঠে গত জন্মের স্মৃতি
চেনা পথ মুছে গিয়ে ক্রমশ হয়ে ওঠি নিমগ্ন জাতিস্মর।
বিগত জন্মে ভাটির পথে যখন হেঁটেছি লালনের সাথে
জীবনের বিবিধ দর্শনের ভেতর
তোমাকেই পেয়েছিলাম সাধন সহযাত্রী
শ্যামা রঙের সৌষ্ঠবে কেটেছে সুনিপুণ সাধনা।
অথচ আজ তুমি ফুটে আছো নতুন গোলাপ
ব্যাবিলনের উদ্যান ঝুলে আছে কাজল চোখে
শূন্যের দিকে দৃষ্টিপাত করে ছুঁয়েছো অসীম সীমানা
তোমার লিপজেল ঠোঁটে হয়ে ওঠি মদনমোহন।
অসহায় ঘুরে বেড়ানো পথের ঘাসে যে জল জমে থাকে
আর নিমেষে হয়ে যায় লীন
তার নাম দিয়েছিলাম শিশির
তুমি জানো না- এসবের কিছুই জানো না
এ জনমে কীভাবে কাটাবো বাকিটা পথ...
জীবন জেলে
পাপের কোন সংজ্ঞা নেই
আছে শুধু নিষিদ্ধ আরাম
পুণ্য আর পাপের মাঝে যে সেতু
তার নিচে বয়ে গেছে নদী
সেই নদীর জেলে হয়ে
কেটে যাক বাকিটা জীবন!
বোশেখের শোকগাথা
উৎসবের মেঘ-রাঙা দিনগুলো ফিরে আসে নিবিড় চেতনায়। রঙিন ঠোঁটের রঙে ঝিলমিল চারিধারে বাজে
বাহারি সুর আর প্রেমময় সোঁ সোঁ হাওয়া। উত্তাপের বোশেখী মমতা জড়িয়ে মধুর চিত্ত সুধা ডালে বটের
ছায়ায়। ভোরে সূর্যের সমুখে দাঁড়ানো আমার পা ছুঁয়ে চেয়ে নাও আগামীর অজানা সময়। দুহাতে তোমাকে
তুলে কপালে চুমু চিহ্ন এঁকে দিয়েছি বুকের অনন্ত অনুরাগ।
আট বছর কেটে গেছে বাহারি বন্ধুর পথ...
রঙিন পাঞ্জাবি পাশে লাল পেড়ে শাড়ি নেই। আরো দূরে ঘোরে মাঠের মেলায় নিমগ্ন মানুষ। নাগরদোলার
ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে মাতাল কিশোরী ঠিক খুঁজে পায় বেভুল মুগ্ধতা আর বিদগ্ধ বেলা। তুমি শুধু উড়ে গেছো
রঙিন বায়ুর বেলুন।
বোশেখের বিনম্র বেদনা ছেড়ে যাবো কতদূর? কোথায় পাবো সেই নগ্ন অনামিকা আর স্নিগ্ধ ললাট। রেখেছি যতনে
যারে নির্ভার মন সঁপে সে যদি জানে না বুঝে না বলে চলে যায় দূরে। বিদগ্ধ বুকে প্রশান্তি হারায়ে বোশেখের
রৌদ্র প্রতাপে হায় হায় করে বয়সী বাতাস।
কোনদিন আমলে আসেনি অনামিকা স্বর্ণশোভা। জানিনি গোপন ব্যথা জড়িয়ে রয়েছে হাত। বুঝিনি কতো ব্যথা দিতে
পারে বোশেখের রাত। আংটি যে কোরে দিল এতো কিছু অদল বদল।
রাতুল প্রহর
বিনিদ্র রজনী অাঁকে কামক্লান্ত চোখ
নিখুঁত কালো জমে উজ্জ্বল শিরায়
তারা যদি খসে যায় আপাত নিয়মে
অাঁধারে খেলা করে অনন্ত অভিমান।
উড়ে গেছে যে ডাহুক ঝোপের আড়ালে
তার তরে কেবা গায় বিলাপের সুর
জল আছে হাওয়া নাচে হৃদয় ফুলে
খোঁজ করো যতো পারো নতুন আবেগ।
ভোরগুলো তাজা প্রাণে হউক অম্লান
ঝলমল রোদ ওঠে হীরক আমোদ
পেছনের সুর ভুলে সমুখ সমর
তলোয়ার গুনে শুধু রাতুল প্রহর!
শ্মশানে দাঁড়াতে নেই
শ্মশানে দাঁড়তে নেই
দেখাতে নেই আঙুল
মাটিমগ্ন মানুষেরা প্রাণের গন্ধে নড়ে ওঠে
মনে পড়ে যায় লৌকিক সংসার
নিবিড় চুমু অথবা সঙ্গম
বেড়া ঘেরা দেহগুলো কাঁপে উলাসে।
শ্মশানে দেখাতে নেই আঙুল
দাঁড়াতে নেই ক্ষণিক
নচেৎ মাটি আর মানুষ ক্রমাগত আলাদা হয়ে
নড়ে ওঠে লতানো পাতার প্রাণ
অস্বীকার করে ইহকালীন সম্পর্কগুলো!
শ্মশানে যেও না মানুষ
কবরের খবর না পড়ে
মানুষের কাছে যাও
খুলে যাবে মুক্তির পথ।
সোমবার, ২৩ জুন, ২০১৪
শেখর দেব এর পাঁচটি কবিতা
শেখর দেব এর পাঁচটি কবিতা
শামুক মুখ
এতকাল পরে ভাটির শামুক এক
মৃদু পায়ে চলে চর হতে লোকালয়
শহরে বীর্যের ঘ্রাণমগ্ন পোকাদের ভিড়
পথে পথে পথিক স্বার্থের ধুলোয়
অচেনা সুর নিয়ে চলে যায় একা।
দুধেল শরীর আর বাহারি আমোদ নিয়ে
বেড়ে যায় শামুকের মুখ
জলের স্রোতে টিকে থাকে কংক্রিট দেহ
তীক্ষè চুম্বন ছুঁয়ে সহসা সমুদ্র যাপন
আর গণহারে মৎস্য সঙ্গম।
পাখিদের দেহবিদ্যা
নতুন দোলায় দোলে পাখি
ডানার হাওয়ায় নাচে অমারাত্রির ঘোর
বিবিধ বিজারণে লাগে প্রাচীন সুর
রাতগুলো তোমার বিনিদ্র চুলে হাহাকার।
যেপথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন জড়ো হয়
সেখানে জ্বলে ওঠে হন্তারক আলো
যার কাছে তেজোদীপ্ত মুদ্রাগুলো
নিমেষে নুয়ে পড়ে অসহায়।
তোমার পাখি জীবনে
নিজেকে ভেবেছি গাছের শাখা
শেকড়ের কথায় উদাসীন হতে না পেরে
ব্যর্থ হয়েছে বিবিধ উড়ালবিদ্যা।
মেঘের কাছে রেখেছিলাম যাপনের গন্ধ
বৃষ্টির ধারায় সে বলে গেল-
মহান মানুষীরা উড়ে যায় দূরে
পড়ে থাকে অসমাপ্ত আয়োজন
আর দেহবিদ্যার তুমুল কসরত।
বাঁশিবিদ্যা
সখিনা বোঝে শুধু মমতার ভাষা
পিচ্ছিল সুখ নিয়ে হাওয়া দোলে
মন ছোটে চারিদিক নরোম আরাম।
নাতিদূর দেহ ভেলা আনত ভুবন
নড়েচড়ে রমরমা দেয় প্ররোচণা
বায়ুবেগে বেজে ওঠে সুরের বাঁশি।
সুর ওঠে রঙ লাগে বর্ণিল তান
গান হয় জল বাজে মরম জ্বলে
ঘোর লাগে ঝিম ধরে সুরার মন।
রাতুল স্বর
সময়ের হাতে হাতে বেড়ে ওঠে নতুন নিয়তি
নিদাগ মননে লাগে কতো বিনোদন- নিশিদিন
গাঁয়ে ফিরি মেঠোপথে স্বপ্নবাজ- উদোম বালক
যেখানে পুকুর আর মাছ ধরা জাল- মাছরাঙা।
উড়ে যায় বিলের বলাকা নিখুঁত নিয়ম মেনে
উঠোনে বিকেল নামে লালরাঙা- কবুতর ডানা
জানালার পাশে বসে পরিচিত আলো ঝলমল
মেহগনি গাছে, জ্বলে গেছে ভোর- অন্তিম আগুন
চোখের আলোয় নিভে যায় দিদির দলিত মন।
পুকুর ঘাটের কথা বলব কী! চিনেনি আমায়
কামরাঙা গাছ শুধু হেসে হেসে তির্যক দুলেছে
ওপাড়ার সনাতন সুধিজন হেঁটে গেছে পাশে।
বেড়েছি দারুণ স্রোতে সময়ের তালে- ভদ্রলোক
শিমুল তমাল আমি উঠেছি উঁচুতে ভাসমান
হয়ে গেছে ছোট সব পুকুর গুদাম গোলাঘর
চেনা পথ সুর তোলে অচেনারে ডাকে অনায়াসে
কান্নার কেমন স্বর চুপচাপ রাতুল বেদনা।
ভালোবাসা ছাড়া নাই কোন ফুল
ফুলের কাছে তার গন্ধযাপনের
অম্লান ইতিহাস জানতে চেয়ে
ঈশ্বরের পুজোতে বলি দিয়েছি
পাশবিক প্রেম।
সেই থেকে মসজিদের আযান আর শাঁখের শব্দে
যুগপৎ বেদনায় ডুবে যাই
ফুলের নির্মোহ অন্তরে।
অন্ধ আর বধির প্রেমের শরীর নিঙড়ে
নির্বাণের ঘোরে
ফুলের সহজাত স্নিগ্ধতার ভেতর
জেগে আছে
ভালোবাসার সুন্দর অন্দর।
এতকাল ঘুরে ঘুরে বুঝেছি
পৃথিবীর অসীম অন্তরে
যে ফুল ফুটে অছে
নাম তার ভালোবাসা ভালোবাসা।
শেখর দেব-এর ছয়টি কবিতা
পকেটে নীরবে শুকালো যৌবন... | ||||
|
শিউলি ফুলের আবেগ পকেটে রেখে এসেছি মুগ্ধতালয়ে ইঙ্গিত-কলা বোঝাবার ভাষা বোঝনি তেমন হিসেবের খাতায় এঁকেছি ব্যর্থতার ফুল পকেটেই শুকালো শিউলি বেলা যেতে যেতে উঁকি দেয় বাড়ন্ত বুক - শিহরণ জ্বালা তবু ছিলাম কাছে তার গাঁথা হলো না কোন মালা। এতদিন পর কেন তবে ডাকো শিউলি আর ফোটেনা তেমন পকেটে নীরবে শুকালো যৌবন... এখন কেন কথার ঝুড়ি উছলে ওঠে বুকের বাঁকে ঠোঁটের মায়া নিয়ে গেছে অন্য বুকের কোমল গানে ডেকোনা আর নষ্ট নীড়ের সুখের মোড়ে আছিতো বেশ প্রিয়ার বুকে কারণে বা অকারণে। রাহুশনিময় নতুন জীবনের কথা শুনেছি কতো রহস্যের ধারাপাতে জন্মাবধি দৈহিক সুখে লেগেছে শনি কিংবা রাহুর রাত্রি অথবা দুইয়ের মিলনে হয়েছে শুভাশুভ সব ভণ্ডুল ছোটবেলায় ছাগশিশুর বদলে শনির কাছে ভিক্ষে চেয়েছে অনন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যত তীব্র কাঁপন দিয়ে জ্বর এলে মাকে দেখেছি দিশেহারা মনের মানসে। সেদিন মশার পিঠে চড়ে এলো রাহু শনিসমেত শুরু হলো তাণ্ডব মা কালি তার লকলকে জিবে চেটে নিবে সব... সেদিন জোড়া কবুতরের বিনিময়ে মা ভিক্ষে নিয়ে এলো নতুন জীবন। অদৃশ্য শূন্যতায় চলে রাহুশনিময় সংসার এসবের কিছুই বুঝিনা সাংসারিক কারবার। নিস্বার্থ প্রয়াস কতোটা রিক্ত করে তোমাকে দিলে মন বলবে করেছি কিছু তবে প্রাধান্যের মাত্রা কতোটা গভীর হলে একবার বলবে তবে করেছি হাতের মুঠোয় গুচ্ছ গুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে যেই তোমাকে দেখাই বায়বীয় হয় সমস্ত প্রয়াস। স্বার্থের সুতো তোমার হাতে দিয়ে বলেছি: বড়ো বেশি তুমি আমার আলিঙ্গনের ভেতর ফুলের মতো ফুটে থাকা নরোম যুগলে ঠোঁটের নিস্বার্থ প্রয়াসে তুমি আন্দোলিত হলে নিবিড় নীরবতায় খুঁজে পাও অনিন্দ্য আমেজ বলো: ভালোবাসি ভালোবাসি প্রাণনাথ। ঘুমকাব্য ভোর হলেই ঘুম ভাঙানোর অপেক্ষায় শুয়ে থাকো অনাবিল আনন্দের ভেতর বালিশের অবিকল একটা স্বপ্ন মাথায় গুঁজে নড়ে চড়ে ওঠো হাসির বিস্তার ঘটে নীরবে - জেগে জেগে চুষে নাও স্বপ্নের মধু। তোমার দেহে জাগরণের সৌরভ নেবো বলে একবার ঘুম ভাঙনিয়া পাখি স্বপ্ন চুরি করে পালালো সমূহ সমর্পন জ্বালা নিয়ে শেষে খুঁজেছো ঘুমের আমোদ বালিশে বালিশে অবিরাম এখন সারারাত জেগে জেগে কাটে - ঘুম আসে ভোরে শিশিরের অবিকল। এটি কবিতা নয় শান্তি কিছু কথা একদম কবিতা হয় না অথবা কিছু খুব কবিতা মোক্ষলাভের একটি ব্যাপার নিয়ে হয় না কবিতা তখন নির্বাণের কথা বলে দেখি কি হয় কোন কিছুতে ফিদা হবার অমোঘ ঘটনা ফাঁস করে দিলে কবিতা হয়ে যাবে আজকাল নিজেকে বড়ো বেশি কবিতা কবিতা মনে হয় জাগতিক স্রোতের প্রতিকূলে হেঁটে লাগে বেশ তোমাকে বোঝার চেষ্টা কবিতার থিসিস অর্থহীন তুমি ঘোর মায়াময় গুহা গুহার ভেতরে কবিতা নয় বরং মদের দেহ দরিয়া মোক্ষলাভ বা নির্বাণ কোনটাই হবে না বাকি জীবনে হতে পারে কবিতা - কবিতা জীবন অথবা জীবন কবিতা কোন কিছুই কবিতা মনে হয় না অথবা সবকিছুই কবিতা মানুষ কবিতা নয় বড়ো বেশি শান্তি খোঁজে এটি কবিতা নয় শান্তি ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি... পরিষ্কার আঁধার আঁধার মানে আলোর চেয়ে বেশি কিছু আলোকিত চারপাশ - পরিষ্কার নয় সবকিছু আঁধারে হারানো হলো অদৃশ্য আলোর ভেতর ডুবে যাওয়া দৃশ্যমান দুনিয়ায় কতোটা ধরে চোখে আঁধারে যতোটা ধরে অফুরান তার ভেতর অনাবিল সুন্দর - পরিষ্কার আঁধার আঁধারে যতো আনন্দ তার কিছুই নেই আলোতে চলো আঁধারে বাধিঁবো ঘর - আঁধারে আদর বাংলাদেশ সময় : ১৩৩২ ঘণ্টা, ৩১ মার্চ ২০১৩ |
শাঁখ (প্রথম সংখ্যা)
শেকড়ের সঞ্জিবনী স্লোগান বুকে ধারণ প্রকাশিত হলো ‘শাঁখ’-এর সূচনা সংখ্যা। সাড়ে ছয় ফর্মার এ লিটলম্যাগ উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত দুই লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে। প্রবন্ধ লিখেছেনÑ সাজিদুল হক, নাজমুল হুদা মজুমদার, শাহিদ হাসান, সাগর শর্মা, অনুপম চৌধুরী, শেখর দেব, অপরাজিত ফেরদৌস। কবিতা লিখেছেনÑ রিজোয়ান মাহমুদ, হাফিজ রশিদ খান, সাজিদুল হক, শাহিদ হাসান, আরণ্যক টিটো, আলী প্রয়াস, মনজুর কাদের, মনিরুল মনির, পিয়াস মজিদ, সেলিম রেজা, জিয়াবুল ইবন, রইস মুকুল, আনিফ রুবেদ, আজিজ কাজল, নিলয় রফিক, শঙ্খচূড় ইমাম, অরবিন্দ চক্রবর্তী, অয়ন আয়শ, শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, রতœদীপা দে ঘোষ, মাসুদ খান, রহমান হেনরী, কচি রেজা প্রমুখ। গুচ্ছকবিতা লিখেছেনÑ খালেদ মাহবুব মোর্শেদ, চন্দন চৌধুরী, অনুপম চৌধুরী, ইয়াসিন আরাফাত, শেখর দেব। সোপী হান্নাহর কবিতা অনুবাদ করেছেন শেখর দেব। ৩৫টি রুবাইয়াৎ লিখেছেন শামসুল আরেফীন।
সদ্য প্রয়াত দুই সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মূল্যায়নধর্মী ও স্মৃতিচারণমূলক গদ্য লিখেছেনÑ শিশির শতাব্দী ও জয়তী বন্দ্যোপাধ্যায়। চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেনÑ ইয়াসিন আরাফাত ও শেখর দেব। অনুগল্প লিখেছেনÑ জাহেদ মোতালেব, নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, রহমান জর্জি। গল্প লিখেছেনÑ শোয়ায়েব মুহামদ, পিন্টু রহমান, ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ।
শাঁখ, সম্পাদক : শেখর দেব, প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৩, মূল্য : ৪০ টাকা।
নিখুঁত আঁধার // শেখর দেব
নিখুঁত আঁধার
শেখর দেব
রাতের নিপুণ আঁধার হাতে
রচনা করেছি কিছু স্বপ্ন আর
প্রার্থিত পরিখা
সুরের অন্তরে যুদ্ধের মন
প্রাচীন আলোয় ওঠে মেতে
উদাস মুদ্রায় লাগে পুরনো প্রণয়।
রচনা করেছি কিছু স্বপ্ন আর
প্রার্থিত পরিখা
সুরের অন্তরে যুদ্ধের মন
প্রাচীন আলোয় ওঠে মেতে
উদাস মুদ্রায় লাগে পুরনো প্রণয়।
তোমার বিছানা করে আকুলি বিকুলি
আসন্ন আগুনে মাতাল পাখি
হঠাৎ ফিরে যায় সুলভ সুন্দরে
যেখানে ছিল অসীম আশ্রয় আর
তরমুজ রাঙা মায়াবী মোহের শরীর।
আসন্ন আগুনে মাতাল পাখি
হঠাৎ ফিরে যায় সুলভ সুন্দরে
যেখানে ছিল অসীম আশ্রয় আর
তরমুজ রাঙা মায়াবী মোহের শরীর।
কপালে নিখুঁত সিঁদুর নিয়ে
রমনের তরে রাধা হয়ে
নিষিদ্ধ ব্যথা আর দিও না বুকে
ছেড়ে দাও তিল তিল পোড়া
আগুনের ফানুস।
রমনের তরে রাধা হয়ে
নিষিদ্ধ ব্যথা আর দিও না বুকে
ছেড়ে দাও তিল তিল পোড়া
আগুনের ফানুস।
হয়তোবা ছাই হয়ে বিরহী রাতে
উড়ে এসে দিয়ে যাবো নিখুঁত আঁধার।
উড়ে এসে দিয়ে যাবো নিখুঁত আঁধার।
কবি শেখর দেব’র প্রেম ক্রমশ বউ হয়ে ওঠার যন্ত্রণা থেকে // কাগজের রোকন
সময়টার শক্তিজাগানিয়া কবি শেখর দেব’র প্রথম কবিতার বই বেরুচ্ছে এবারের
বই মেলায়। কবিতার বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী মোবাশ্বির আলম মজুমদার।
কপালের শ্রুতিলিপি, নিবিষ্ট নিনাদ, শ্বাসবিদ্ধ শঙ্করাসহ অনেক নামের মাঝ
থেকে তাঁর প্রথম বউ সন্তান বইটির উপযুক্ত নাম রাখা হয়েছে ‘প্রত্নচর্চার
পাঠশালা’।
নামের ভেতরেই অঙ্কিত দেখাযায় যুব নারী সুন্দর গুলো।
কবি শেখর দেব তাঁর ফেসবুক পাতায় লিখেছেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রেমের প্রতিক্রিয়া
“ আমার একটি বউ হবে হবে করে প্রেমের বয়স হলো প্রায় দশ বছর। দশটি বছর তিল তিল করে গড়েছি আদর ও ভালোবাসা দিয়ে। বউটি আগাগোড়া কবিতা। অবশেষে বউটি আমার আসছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এক গুণী শিল্পী তাকে তুলির ছোঁয়ায় সাজিয়েছে দারুণ। বউটি আমার ঘরে এনে সবাইকে দিয়ে দেব, যারা যারা নিতে চায়। তার বুকে আছে রমনীয় প্রত্নগন্ধ। তার শরীরে আছে মাতাল সোঁদা গন্ধ। তার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে হাত বুলিয়ে আমি পুলকিত হই। আপনারাও মুগ্ধতার মত্ততায় হারাবেন আশা রাখছি। মূলত আপনাদের হাতে তুলে দেওয়াই বাসনা। যদিও খারাপ লাগছে নিজের বউ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেব ভেবে। কি করা বউ এর নিয়তি! একটু পর তার অবয়ব খানি আমার প্রোফাইলে শোভা পাবে।
____________________
উপরের 'বউ'গুলো 'বই' হয়ে গেলে দারুণ হয়।
আমি কিন্তু এতো উদার বা পাগল নই!!!!”
প্রকাশ পূর্ব একটু পাঠে বেশ জোরালো ভাবে মনে হয়েছে প্রত্নচর্চার পাঠশালার কবিতাগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজস্ব ধরণের আলাদা বলে মনে হয়েছে। এই সময়ের কবিতায় সংগ্রহে রাখার মতো কাজ হচ্ছে- এই খুশিতে আমিও বেশ আনন্দিত।
এবার তার একটি কবিতা পাড়া যাক
কাঠের সিন্দুকে জ্বলে লাখবাতি। অন্নপূর্ণার হাসিতে কোকিল
ডাকে ধানের গোলায়। পরিপাটি ধুতির ভাঁজ; জ্বলে হাসি সুখের
বাতি। রঙিন আঁচলে দেখা দীঘির দীঘল ঘাট সব জানে।
শিমুলতলায় ঝরাপাতা করবন্দি করে পেয়েছি সুদীর্ঘ আয়ু।
গন্ধরাজের বাগানে প্রজাপতি-চোখে খুঁজেছি তৃষ্ণাবিনাশী নদী।
অবশেষে সেই নদীতেই হারিয়েছি সব।
শুভ্র বসনা দিদির সন্তানেরা নিয়ম ভেঙে গড়েছে দিনরাত। আঁধার
সিন্দুকে জমা আছে দাদার শোক, দিদির দীর্ঘশ্বাস।
-লাখবাতি/ শেখর দেব / প্রত্নচর্চার পাঠশালা
কবি শেখর দেব লিখছেন দীর্ঘদিন থেকে, তবে প্রচলিত অর্থে বই আকারে লিখেনি। কবিতাগুলো বিভিন্ন সময় জন্ম নিলেও বইটা এখনো দেবজীর পেট হতে বেরোয়নি। মাত্র ক’দিন বদে মেলা শুরু। যদ্দুর জানি আগামী মেলার পাঠসূত্র থেকে যে কোন একদিন বইটি বাজারে চলে আসবে। আর প্রচ্ছদে লিখেছেন কবি এজাজ ইউসুফী..বিষয়টা বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়ই।
নামের ভেতরেই অঙ্কিত দেখাযায় যুব নারী সুন্দর গুলো।
কবি শেখর দেব তাঁর ফেসবুক পাতায় লিখেছেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রেমের প্রতিক্রিয়া
“ আমার একটি বউ হবে হবে করে প্রেমের বয়স হলো প্রায় দশ বছর। দশটি বছর তিল তিল করে গড়েছি আদর ও ভালোবাসা দিয়ে। বউটি আগাগোড়া কবিতা। অবশেষে বউটি আমার আসছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এক গুণী শিল্পী তাকে তুলির ছোঁয়ায় সাজিয়েছে দারুণ। বউটি আমার ঘরে এনে সবাইকে দিয়ে দেব, যারা যারা নিতে চায়। তার বুকে আছে রমনীয় প্রত্নগন্ধ। তার শরীরে আছে মাতাল সোঁদা গন্ধ। তার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে হাত বুলিয়ে আমি পুলকিত হই। আপনারাও মুগ্ধতার মত্ততায় হারাবেন আশা রাখছি। মূলত আপনাদের হাতে তুলে দেওয়াই বাসনা। যদিও খারাপ লাগছে নিজের বউ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেব ভেবে। কি করা বউ এর নিয়তি! একটু পর তার অবয়ব খানি আমার প্রোফাইলে শোভা পাবে।
____________________
উপরের 'বউ'গুলো 'বই' হয়ে গেলে দারুণ হয়।
আমি কিন্তু এতো উদার বা পাগল নই!!!!”
প্রকাশ পূর্ব একটু পাঠে বেশ জোরালো ভাবে মনে হয়েছে প্রত্নচর্চার পাঠশালার কবিতাগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজস্ব ধরণের আলাদা বলে মনে হয়েছে। এই সময়ের কবিতায় সংগ্রহে রাখার মতো কাজ হচ্ছে- এই খুশিতে আমিও বেশ আনন্দিত।
এবার তার একটি কবিতা পাড়া যাক
কাঠের সিন্দুকে জ্বলে লাখবাতি। অন্নপূর্ণার হাসিতে কোকিল
ডাকে ধানের গোলায়। পরিপাটি ধুতির ভাঁজ; জ্বলে হাসি সুখের
বাতি। রঙিন আঁচলে দেখা দীঘির দীঘল ঘাট সব জানে।
শিমুলতলায় ঝরাপাতা করবন্দি করে পেয়েছি সুদীর্ঘ আয়ু।
গন্ধরাজের বাগানে প্রজাপতি-চোখে খুঁজেছি তৃষ্ণাবিনাশী নদী।
অবশেষে সেই নদীতেই হারিয়েছি সব।
শুভ্র বসনা দিদির সন্তানেরা নিয়ম ভেঙে গড়েছে দিনরাত। আঁধার
সিন্দুকে জমা আছে দাদার শোক, দিদির দীর্ঘশ্বাস।
-লাখবাতি/ শেখর দেব / প্রত্নচর্চার পাঠশালা
কবি শেখর দেব লিখছেন দীর্ঘদিন থেকে, তবে প্রচলিত অর্থে বই আকারে লিখেনি। কবিতাগুলো বিভিন্ন সময় জন্ম নিলেও বইটা এখনো দেবজীর পেট হতে বেরোয়নি। মাত্র ক’দিন বদে মেলা শুরু। যদ্দুর জানি আগামী মেলার পাঠসূত্র থেকে যে কোন একদিন বইটি বাজারে চলে আসবে। আর প্রচ্ছদে লিখেছেন কবি এজাজ ইউসুফী..বিষয়টা বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়ই।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)







