শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

গল্প । কিছু স্লোগান আর এক টুকরো প্রেম

কিছু স্লোগান আর এক টুকরো প্রেম
শেখর দেব

সোনা ধরলে ছাই হয়ে যায়, কাছে গেলে দূরে যায় সব। চারপাশটা আজ খুব নিরব নিরব লাগছে আবিরের। কিছুই যখন ভালো লাগে না, চোখে যখন অন্ধকার দেখে তখন আবির সন্ধ্যায় চলে আসে জামালখান। জামালখানে এখন প্রতিদিন মেলা। প্রাণের মেলা। দাবির মেলা। বর্ণের ধারাপাত জামালখান জুড়ে। ক তে হয় কাদের মোল্লা, স তে সাঈদী...। আবিরের একটু একটু ভালো লাগে। ঝাপসা চোখের ঠুলি খুলে যায়। স্পষ্ট দেখতে পায় তারুণ্যের দাবির মেলা। দূরের মানুষ কাছে আসতে থাকে, কাঁধে কাঁধ মিলায়, স্বরে স্বর। আবিরের মনের ছাইগুলো সব সোনা হয়ে যায়। আবির চিৎকার করে স্লোগান ধরতে চায় কিন্তু মুখ ফুটে তা বাহিরে আসে না। আবিরের জীবনে যা ঘটে গেল তাতে কারো মুখ ফোটার কথা না। আজ তার মনের অবস্থা সে নিজেও উপলব্ধি করতে পারছে না। স্লোগানে স্লোগানে মুখর জামালখানে দাঁড়িয়ে থাকে আবির। মনে মনে স্লোগান ধরে ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই। অবশ্য চিৎকার করে স্লোগান ধরার শক্তিও তার নেই। তার শরীরে যে হাজার বছরের ক্লান্তি। মনের অবস্থা ভালো না থাকলে যে মানুষ এত দুর্বল হয়ে যায় সে আগে বুঝতে পারেনি। সে হাঁটে বিভিন্ন বয়সী মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে আর দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের রাজাকারের পোস্টারে থুথু দেয়ার দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করে। সেও একাত্তরের পশুগুলোর গালে থুথু দেয়। তার শান্তি লাগে, হালকা হয়ে আসে মন।
আবিরের আফসোস হয় কেন সারাদিন এখানে কাটাতে পারে না। নতুন চাকরি নিয়ে বড় বিপাকে আছে। কাজ আর কাজ। অফিস শেষ করে আবির চেষ্টা করে জামালখানে চলে আসতে। স্লোগান শুনতে শুনতে আবির হারিয়ে যায়। কোলাহল আবিরকে বড়ো বেশি চুপচাপ করে তোলো। প্রতিদিন উৎফুল্ল চিত্তে এ প্রতিবাদের স্রোতে ভাসতে চেষ্টা করে। কিন্তু আজ মনের উপর বিশাল একঝড় বয়ে গেল, মলিন মুখ নিয়ে সে চেষ্টা করে প্রতিদিনের মতো উৎফুল্ল হতে কিন্তু পারে না। বারবার সম্পার কথা মনে পড়ছে। সম্পার মনের কী হাল হয়েছে তা ভাবতেও অবাক লাগছে। আবির মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে বিকেল থেকে। নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। কে জানে-এতক্ষণে হয়তো একশোবার ট্রাই করেছে। না পেয়ে গুমরে গুমরে কাঁদছে। কিন্তু আবির আর কী করবে? এছাড়া অন্য কোন পথ যে খোলা নেই। পথ একটা আছে। সে পথ সুখের বলে মনে হয় না। মা বাবাকে বাদ দিয়ে কিভাবে সে বাকি জীবন চিন্তা করবে। যারা তাকে শত কষ্টের মাঝেও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। চার ভাইয়ের মধ্যে আবিরই শুধু পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করছে । অন্যরা কেউ কিছুটা করেছে অথবা একদমই পড়ে নি। কত কষ্ট করে বাবা আবিরকে মানুষ করেছে। বাবার তো আশা আছে ছেলে চাকরি করে বুড়ো বয়েসে সুখে রাখবে। এখন আবির সম্পার জন্য কিভাবে সব নিমেষে ছেড়ে দিবে। হয়তো তিন বছরের সম্পর্ক তবুও কিভাবে মা বাবাকে ছাড়া সম্পাকে নিয়ে সুখি হবে। বাবার সাফ জবাব-ওকে বিয়ে করলে ভাববো আমাদের ছেলে ছোটটা নেই, আমারতো আরো তিন ছেলে আছে, একটা ছেলে মারা গেলে কিছু যায় আসবে না। এরকম পরিস্থিতিতে কিভাবে সম্পর্কটাকে ধরে রাখবে আবির। সম্পা মেয়েটার জন্যও কষ্ট হচ্ছে খুব, কিছুই চিনে না শুধু আবির ছাড়া। কেন যে সম্পার সাথে সম্পর্কটায় জড়ালাম-ভাবতে ভাবতে হাঁটে।
চারপাশের হট্টগোল হঠাৎ নিমেষে হারিয়ে যায় আবার ফিরে আসে জামালখানের স্লোগানে। স্লোগান ভালো লাগে না আবিরের। ম্যাকিয়াভেলির একটা কথা মনে পড়ে যায় আবিরের-মানুষ জন্মগতভাবে স্বার্থপর। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে তুমুল স্লোগানের চেয়ে ব্যক্তিগত বিষয়টা খুব জরুরী হয়ে গেল! আবিরের নিজের স্বার্থপরতা দেখে নিজের খারাপ লাগলো। তবু মন বলে কথা। সম্পার সাথে মনের লেনদেন হয়েছিল। সম্পাকে একদম ভুলে যেতে হবে। বাবাকে অলরেড়ি বলা হয়ে গেছে সম্পার সাথে কোন সম্পর্ক রাখবে না। এখন বাস্তবায়নটা একান্ত নিজের উপর। কিন্তু আবির কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কেন মোবাইল বন্ধ রেখেছে এখবর জানতে পারলে সম্পার মনেই বা কী আসবে আবিরকে নিয়ে। সব কিছু গুবলেট হয়ে যাচ্ছে আবিরের মাথায়। আবির মাথাটা একটু ফ্রি করতে চাইল। আবার মনোযোগী হলো স্লোগানের ভেতর। আওয়ামী লীগ কি পারবে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে? বা আওয়ামী লীগের লক্ষ্য কি যুদ্ধাপরাধের বিচার করা? নাকি পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়া। বিএনপি কি আদর্শহীন রাজনীতি টেনে নিয়ে যেতে পারবে? সময় হয়তো এসবের সব সমাধান দিয়ে যাবে। কিন্তু আমার কী হবে? সম্পার কী হবে? একটি কথা মনে পড়ছে খুব-টাইম ইস দ্যা বেস্ট মেডিসিন। কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে? তবে এটা নিশ্চিত সম্পা মেয়েটা জীবনেও আমাকে ক্ষমা করবে না। আবির বারবার চাইছে সম্পার বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। বাবা মায়ের হঠাৎ উল্টে যাবার কাহিনীটিও তার বিশ্বাস হচ্ছে না । কী সুন্দর সব ঠিকঠাক করে আসলাম সবাইকে নিয়ে। সম্পার বাবা-মা-ই বা কী মনে করছে? কী ধারণা পোষণ করছে আমার পরিবার নিয়ে? তবে এ সত্যটা আবির আজ বুঝেছে পরিবারে প্রত্যেকের একটা আলাদা আলাদা মতামত দেয়ার অধিকার আছে এবং সে অধিকার ঠিক মতো তারা কায়েম করে। পরিবারে আবিরের মতো পড়ালেখা জানা আর কেউ নেই। আবিরের সিদ্ধান্তকে সবাই প্রাধান্য দিয়ে আসছে আজ-অব্দি কিন্তু হঠাৎ করে তার সিদ্ধান্তকে সবাই বাতিল করে দিবে একদম কল্পনাই করতে পারে না। আজ আবিরের ভুল ভাঙলো। কোথায় যে গলদ ছিল তার। সব কিছু গুছিযে এনেও সব চুরমার হয়ে গেল। আবির হাঁটতে হাঁটতে ডিসি হিল চলে এলো। ভাবলো মন্দিরে যাই, ঈশ্বরের কাছে যাই, মনটাকে স্থির করি। মন খারাপ থাকলে আবির মন্দিরে যায়। ভগবানের কীর্তন করে। নাম-কীর্তনে মনে প্রশান্তি আসে। সেদিন মায়ের মন্তব্যে খুব কষ্ট পেয়েছিল আবির- সে তো কৃষ্ণ নামের বদলে এখন সম্পা সম্পা করে কীর্তন করে ভগবানের কথাতো একদম ভুলে গেছে । গীতায় ভগবান বলেছেন আমার চার রকমের ভক্ত আছে তাদের মধ্যে এক প্রকার হচ্ছে যারা বিপদে পড়লে আমাকে স্মরণ করে। আবির ভাবলো-আমি তাদের দলে। বিপদে বা মানসিক অশান্তি না হলে ভগবানের কাছে আসি না। তাই-তো ভক্ত!

২.
সময়টাই এমন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, সবকিছু সহজ হয়ে আসছে মানুষের কাছে। প্রেমটাও খুব সহজ হয়ে গেছে। সবার হাতে হাতে মোবাইল। আন্দাজে কয়েকটা নম্বর ছাপলেই একটি মনের মানুষ মিলেও যায় খুব দুর্ভাগা না হলে। তখন আবির সদ্য পড়ালেখা শেষ করেছে। এই সোনার দেশ আজ ডিজিটাল, প্রেম করা খুব সহজ কিন্তু একটা চাকরি পাওয়া খুব কঠিন হয়ে ওঠেছে। বেকার প্রচুর কিন্তু চাকরি নাই তেমন। ভিশন-২০২১ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ সরকার। সদ্য বেকার আবির চাকরির পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। টিউশন করে যা পায় তাই দিয়ে চলছে মোটামুটি। এত বছর পড়াশুনার পর একটা চাকরির জন্য সবাই হা করে আছে আবিরের দিকে। একটার পর একটা পরীক্ষা দিচ্ছে। বড়জোর ভাইভা পর্যন্ত, চাকরি সোনার হরিণ হয়ে থেকে যায়। জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। সুমি নামের একটি মেয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে তাঁর বুকে এসেছিল কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে সে চাকরিজীবী এক ছেলের বউ হয়ে অন্যের ঘরণি হয়েছে মাস ছয় হলো। সে শোক মোটামুটি কাটিয়ে উঠেছে আবির। অবশ্য সুমির সাথে সম্পর্কটা তেমন জমে ওঠেনি। বেকার জীবনে প্রেম তেমন নেশা ধরাতে পারে না হয়তো। চাকরি কি সত্যি সত্যি হবে না। এমন ঘোর টেনশানে দিন কাটাতে থাকে। একদিন রাতে মোবাইলে ম্যাসেজ আসে-ভালোবাসার কথা লেখা। আবির মোবাইল বেক করে প্রুথম সম্পার কণ্ঠটা শুনেছিল। মিষ্টি বেশ, চিনির চেয়ে একটু বেশি। ভুল করেই নাকি ম্যাসেজটা এসেছিল। পরে জানতে পারে এটা একদমই পরিকল্পিত একটা ম্যাসেজ ছিল। আবিরের এক ছাত্রের বান্ধবী সম্পা। বয়স অল্প সবে মাত্র এইচএসসি ভর্তি হয়েছে। এসব তথ্য জানতে আবিরের বছর খানেক সময় ব্যয় করতে হয়েছিল এই অপরিচিত সম্পার সাথে। মোবাইলে মোবাইলে সম্পর্ক। দেখা হয়নি তখনো দুজনার। বেকার জীবনের প্রতিটি সময়ে সম্পা আবিরকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা ছোট হলে কি হবে ওর কথা শুনলে মনেই হয় না সে সদ্য এইচএসসি ভর্তি হয়েছে। ঈশ্বর মেয়েদের পরিণত হবার আশ্চার্য শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়া আবির মাঝে মাঝে যে সব বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত সম্পার কাছে ছিল তার সুন্দর সমাধান। আস্তে আস্তে সুমি নামের মেয়েটার জায়গা দখল করে নিল সম্পা। সম্পার একটাই সমস্যা সে কোন মতেই দেখা করতে চায় না। আবির বুঝতে পারে না কেন সম্পা তার সাথে দেখা করতে চায় না। দেখা করতে বল্লে, সে বলে চাকরি পাবার পর দেখা করবে। আবিরের প্রার্থীত জিনিসের মধ্যে এটাই প্রথমে। আবির মেনে নেয়, আগে চাকরি পেয়ে নিই তারপর দেখা। ভালোবাসা জমে ওঠে দিন দিন। দিনের কয়েক ঘণ্টা সেলুলারে চলে প্রেম। প্রেমটা ইদানীং মোবাইল প্রণয়ে রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন ডজন খানেক সেলুলার চুমু না দিলে আবিরের ও সম্পার কারো ঘুম আসে না।
এভাবে চলছে অনেক দিন। এর মধ্যে চাকরি হলো আবিরের। ব্যাংকের চাকরি। বর্তমান সময়ে মেয়ের বাবাদের সবচেয়ে পছন্দের চাকরি। বর হিসেবে ব্যাংকার মেয়েদেরও প্রথম পছন্দ। এবার সম্পার সাথে দেখা করার পালা। আবির-তো আর সময় পায় না। নতুন চাকরি তার উপর বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং। এসব নিয়ে ব্যস্ত আবির। তাছাড়া সম্পাদের বাড়ি শহরে না। শহর থেকে অনতিদূরে কোন গ্রামে। সম্পা মেয়েটা কিছু বিষয় আবিরের কাছ হতে লুকিয়েছে। তার মধ্যে তাদের গ্রামে নাম। কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিল আবির কিন্তু সম্পা না বলায় পরে আর জিজ্ঞেস করেনি। সম্পা মেয়েটার একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট হলো সে একদম দেখা করার কথা বলে না। বাসর রাতে দেখা করলে যেন তার সবচেয়ে ভালো হয় এমন ভাব আছে তার কথায়। কিন্তু আবিরের এত ব্যস্ততার মাঝেও চায় তার সাথে একটু দেখা করি। যার সাথে অনেক কথা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের অনেক পরিকল্পনা। এমনকি বিয়ের পর হানিমুনের কথাও। চাকরি পাবার পর দেখা করার কথা থাকলেও সম্পার মুখে দেখা করার কোন আওয়াজ সে পায় না। একদিন আবির তাকে খুব চেপে ধরল দেখা করার জন্য। সিদ্ধান্ত হলো পহেলা বৈশাখ দেখা করবে। সম্পা কিন্তু এখনো দ্বিধা রেধে দিয়েছে কথার মধ্যে। আবির কোন মতেই সিউর হতে পারে নি আসলেই কি সে দেখা করবে?

৩.
এর মধ্যে তিন চার বার দেখা হয়েছে সম্পার সাথে। আবির খুব খুশি হতে পারেনি প্রথম দেখাতে । তবুও ভালোবাসর কথা ভেবে বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয় নি। সিদ্ধান্ত নেয় সম্পাতো অনেক ভালোবাসে । বাকি জীবনটা না হয় তার সাথেই কাটিয়ে দিবে। সম্পাই আবিরের ফ্যামেলির সবাইকে তাকে দেখে যাবার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আবির রাজি হয় এবং তার ফ্যামেলির সবাইকে মেয়ে দেখতে যাবার জন্য মোটিভেট করে। আবিরের মা-বাবা একমাত্র শিক্ষিত ছেলের কথায় সম্পাকে দেখতে যায়। সাথে মেজো ভাই। মেজো ভাইয়ের কারণে আজ গণেশ উল্টে গেল। সম্পার মা-বাবাকে কথা দিয়ে আসে একবছর পরে বিয়ে। কিন্তু বাড়ি ফিরে মেজদার উক্তি ছিল-আমরাতো পড়ালেখা করিনি, তোমাদের পড়ালেখা জানা ছেলের রুচি যে এত নিচু তা কিভাবে জানি? এ মেয়ে ঘরে আনলে সবাই বলবে মেয়ের বাবা থেকে কয় লাখ টাকা নিয়েছি। এ প্রশ্নের জবাব কী দিব? এই মেয়ে বিয়ে করলে আমি তার সাথে নেই। একই সুর মিলালো মা-বাবা। এর পর থেকে মোবাইলটা বন্ধ রেখে উদ্দেশ্যহীন ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে জামালখান। উত্তাল স্লোগান। আবিরের মন খারাপ। দুই দিন মোবাইল বন্ধ । আজ আবির তার কোছের বন্ধু সুমনকে ফোন দিল ফোনের বুথ থেকে। সম্পা এ বন্ধুর ফোন নাম্বার জানত। বন্ধু বললো সম্পার ফোন আমি রিসিভ করিনি দুই দিন। আজ একটা আন-নোন নাম্বার থেকে ফোন এলো সম্পা নাকি বিষ খেয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন